মোছাঃ রাশিদা বেগম (৪০)
জেলা- খুলনা
আমি রাশিদা বেগম, বয়স-৪০, জেলা- খুলনা। আমি কিছু দিন ধরে বুঝতে পারি আমার
জরায়ু মুখে সমস্যা হচ্ছে। অনেক ঔষধ খেয়েছি কোন কাজ হয় নাই তখন আমি এই
বিষয়টা কাকে বলবো সেটা বুঝতে পারছিলাম না লজ্জায় কাউকে বলতেও পারিছি না।
যখন বেশি সমস্যা হচ্ছিল আর সহ্য করতে পারছিলাম না তখন আমি আমার মেয়েকে
বিষয়টা বলি। পরের দিন আমার মেয়ে আমাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে একজন
মহিলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখান। ডাক্তার আমাকে বলেন কিছু টেস্ট করতে। আমি
সেই টেস্টগুলো করে টেস্টের রির্পোট দেখার পরে আমাকে বলেন আপনার জরায়ু মুখে
ক্যান্সার হয়েছে। আপনি মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করেন। ক্যান্সার
হাসপাতালে গিয়ে বোর্ডে কাগজ পত্র জমা দিলাম তারপর ডাক্তার দেখে আমাকে রেডিও
থেরাপি দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী আমাকে ২৫টা রেডিও থেরাপি
লেখেন। তখন আমি চিন্তায় পড়ে যাই। ঢাকায় আমার কোন আতড়বীয় নাই যে এত দিন তার
কাছে থাকবো। আবার ঢাকার শহর চিনি না। কি করবো ঠিক বুঝে উঠতে পরছিলাম না।
তখন ক্যান্সার হাসপাতালে একটি কোনায় বসে ছিলাম এই সময় মধ্য বয়স্ক একজন লোক
এসে কাগজ দিয়ে বলেন ৩ বেলা খাবার, সকালে একটি সিদ্ধ ডিম, বিকালে ১ গøাস দুধ,
ফলমুল, থাকা ও হাসপাতালে যাওয়া- আসা বাবদ খরচ মোট ২০০ টাকা। তখন আমি মনে
মনে ভাবলাম ঢাকা শহরে এই রকম জায়গা আছে নাকি যে ২০০ টাকার বিনিময় সব কিছু
পাওয়া যায়। তখন তার নাম জানতে চাইলে সে বলে আমি দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার
ফাউন্ডেশনে চাকুরী করি। তখন ওই কাগজে থাকা নাম্বারে কল করি বিস্তারিত জানার জন্য
তখন ফোনেও একই কথা বলেন। তারপর থেকে দিগন্তেই থাকি। এখানের পরিবেশ,
খাবার সব কিছুই ক্যান্সার বান্ধব। আমি যখনই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসি বা কোন কাজে
আসি তখন এই দিগন্তেই থাকি। এই মহত কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের জন্য মন খুলে
আল্লাহ দরবারে দোয়া করি।





