স্মৃতিতে দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন

স্মৃতিতে দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন

২০০২ সালের ফেব্রæয়ারী মাস। দিন তারিখ এই মুহুর্তে মনে করতে
পারছিনা। ওমর ফারুক সাহেব-যার কাছে আমার ম্যানেজমেন্ট
শিক্ষার হাতেখড়ি। আমাকে জরুরী বৈঠক বললেন। তিনি এই
ধরণের বৈঠক ডাকতে বলনে, সাধারণ প্রতিষ্ঠান এর অগ্রগতি ও নতুন
শিক্ষার আইডিয়াল সম্পর্কিত আলোচনা করার জন্য মাসুদ মজুমদার,
ভাই ডাক্তার শামসুজ্জামান ভাইসহ আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত
ছিলেন। ওমর ফারুক সাহেব নতুন কিছু উপস্থাপন করলেন, যা
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত নয় বরং মানবতা সম্পর্কিত। উপস্থিত সকলকে
বললেন ডাক্তার মোহাম্মদ নওফেল ইসলাম সাহেবের ছেলে দিগন্ত
প্রাণঘাতী রোগে আμান্ত। তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে।
রোগটি সম্পর্কে পূর্বে ধারণা না থাকলেও আলোচনায় এটুকু বুঝতে
পারলাম যে, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে এবং এটি
অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। আমাদেরকে কিছু করতে হবে এবং
এজন্য আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বারাকা ফাউন্ডেশনের
দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করে বিস্তারিত
করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। পরবর্তীতে বারাকাহ ফাউন্ডেশন
এর সম্মানিত চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুর রউফ সাহেব ও আরো
অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চিকিৎসা তহবিল
গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিচারপতি আব্দুর রউফকে চিকিৎসা
তহবিল চেয়ারম্যান করে কমিটি গঠন করা হয়। বরাবরের মতো
মাসুদ ভাই এলিভেটেড তৈরীর গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা
মেডিকেল কলেজ প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
তারিক আলি নাসির সাহেব সহ আরো দুইজনের তত্ত¡াবধানে দিগন্ত
চিকিৎসা তহবিল নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। ডাক্তার
ওমর ফারুক সাহেবের নেতৃত্বে প্রাথমিক পর্যায়ে ফান্ড সংগ্রহের
কাজ শুরু হয়। যেহেতু ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকান্ডের
কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাই এর কোঅর্ডিনেশন এর দায়িত্ব আমাকে গ্রহণ
করতে হয় প্রাথমিকভাবে কাজটি দ্রæত মনে হলেও মানুষ মানুষের
জন্য কিছু করতে পারে তার আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো দিগন্ত চিকিৎসা
তহবিল। মানুষের সহযোগিতা এবং আজকের দিনটা দিগন্ত
মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন এর পাশাপাশি বিভিনড়ব কাজে অংশ
গ্রহণ করে এই মুহুর্তে যাদের নাম মনে পড়ছে তাদের মধ্যে ডাক্তার
কাজী সাইফ উদ্দীন বেননুর, ডাক্তার শবনম আক্তার শান্তা, ডাক্তার
রায়হানা আওয়াল সুমি, ডাক্তার কামাল, ডাক্তার মোস্তফা কামালসহ
আরো অনেকে।
শুরু হলো দিগন্তের চিকিৎসা। প্রমে পিজি হাসপাতাল এরপর
ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং সর্বশেষে সিঙ্গাপুর
জেনারেল হাসপাতাল। ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডিরেক্টর
জনাব মোঃ মিজানুর রহমান সাহেব সিঙ্গাপুরে দিগন্তের বাবা-মা
ডাঃ মোঃ নওফেল ইসলাম ও ডাঃ আইরিন পারভীনের থাকার
ব্যবস্থা করলেন নিজ বাসভবনে। কিন্তু মহান আল্লাহ তা’আলার
ফায়সালাকে মেনে নিতে হলো। দিগন্ত ১৩ মে, ২০০২ সালে
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করে (ইনড়বালিল্লাহি ওয়া
ইনড়বাইলাইহি রাজিউন)। সিঙ্গাপুর থেকে নিয়ে আসা হল কামাল
দাদাসহ আমরা কয়েকজন এয়ারপোর্টে (উবধফ ইড়ফু) রিসিভ
করলাম। দিগন্তকে প্রমে ১০১/১ ইন্দিরা রোডের বাসায় এবং
পরে জানাজার জন্য কাটাবন মসজিদে নেওয়া হলো একই দিনে
জামালপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে জামালপুর কবরস্থানে তাকে
দাফন করা হলো। ক্লান্তহীনভাবে দিগন্তের চিকিৎসা আর্থিক অনাটন,
সরকারি চাকুরির দায়িত্ব এর উপর সন্তান হারানোর বেদনা শ্রদ্ধেয়
ডাক্তার সাহেবের চোখে মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিশ্রাম
নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি শুরু করলেন নতুন যুদ্ধ। অস্থির
হয়ে পড়লেন চিকিৎসার টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য কাকে দেবেন
নির্দিষ্ট করে জানা নেই। তহবিল সংগ্রহের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের
নিয়ে আলোচনায় বসলেন। সর্ব জনাব বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর
রউফ, ফারুক আল নাসির, ডাক্তার মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মাসুদ
মজুমদার, ডাক্তার সাইফ উদ্দীন বেননুর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন
চিকিৎসা তহবিলের টাকা নিয়ে এমন এক প্রতিষ্ঠান শুরু করা যেতে
পারে যেখানে আμান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহযোগিতা পেতে
পারে।
এই সূত্র ধরেই আজকের দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন।
এখানে ফারুক আল নাসির সাহেবের মহানুভুবতার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি দিগন্ত চিকিৎসা সহায়তা করেছেন তেমনি
দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন এর জন্য মানবিক সহায়তা
দিয়েছেন। শুরু হয় দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন এর
যাত্রা। ভাড়া বাড়িতে ১০টি বেড নিয়ে একটি ক্যান্সার সেন্টার
স্থাপন করা হয়। ২১শে মার্চ, ২০০৩ সালে শ্যামলীর রিং রোডের
একটি দ্বিতল ভবনে প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মাইনুর রেজা
চৌধুরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তত্ত¡বধায়ক সরকারের
স্পেশাল উপদেষ্টা বাংলাদেশের মাহবুব জামিল সাহেব, অধ্যাপক
ডাক্তার এম.এ রশিদ, অধ্যাপক ডাক্তার এম এ মানড়বান, ডাক্তার
তারেক আল নাসিরসহ আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ।
ডাক্তার মাহবুব জামিল সাহেব প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি কালার টিভি
এবং একটি ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন দান করেন ফারুক আলি নাসির
সাহেব। যাতায়াতের জন্য একটি এ্যাম্বুলেন্সও দান করেন ফারুক
আলি নাসির সাহেব। এভাবে বিভিনড়ব ব্যক্তিবর্গের দ্বারা প্রতিষ্ঠানটির
যাত্রা শুরু হয়। শিশুদের বিনামূল্যে থাকা খাওয়া, যাতায়াতের ব্যবস্থা
নেওয়া হয় চাহিদার তাগিদে নামমাত্র মূল্যে মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে
সব ধরণের ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করা হয়
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ক্যান্সারে আμান্ত রোগীরা ঢাকা
শহরে বিভিনড়ব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দিতে
আসে। তাছাড়াও শহরের অবস্থান ও থাকা খাওয়ার জন্য ব্যয়
করতে হয় প্রচুর অর্থ। ফলে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে গরীব রোগীদের
চিকিৎসার ব্যয় বহন। এইসব রোগীর সেবায় কাজ শুরু, প্রমে
দেখা দেয় নানা রকম বাঁধা দুর করার জন্য শুরু হয় যোগাযোগ।
দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যান্সার ফাউন্ডেশন একদিন এদেশের অগণিত
ক্যান্সার আμান্ত মানুষের কাছে তার সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
সবার কাছে এই আহŸান আসুন যে যেভাবে পারি আমরা আমাদের

Info

  • Category: Donation,Health
  • Address: Dhaka, Bangladesh
  • Start: May 15, 2019 6:18 pm
  • End: May 23, 2019 6:18 pm

Contact Us

Recent News

Gallery